বিচারের প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে পুলিশ: শমীক
কলকাতা: আরজিকরকাণ্ডে তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই ও আদালতের ভূমিকা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুললেন নির্যাতিতার মা তথা বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। আরজিকর হাসপাতালের মধ্যে অভয়াকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনার ২ বছর পেরিয়ে গেছে। এখনো মেয়ের খুনের বিচার চেয়ে লড়াই করে যাচ্ছেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ ও বাবা শেখর দেবনাথ। মেয়েকে বিচার পাইয়ে দিতেই রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত বলে বার বার করে জানান রত্না। পানিহাটি থেকে বিজেপি-র টিকিটে জয়ীও হয়েছেন তিনি। কিন্তু রাজ্যে বিজেপি-র সরকার আসার পরও, মেয়ের বিচার অধরা বলেই বৃহস্পতিবার দাবি করেন রত্না। পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক বলেন, ‘জলের মতো পরিষ্কার। বিচারব্যবস্থা কোনো দিকেই এগোচ্ছে না। সবাই...
বিচারের প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে পুলিশ: শমীক
কলকাতা: আরজিকরকাণ্ডে তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই ও আদালতের ভূমিকা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুললেন নির্যাতিতার মা তথা বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। আরজিকর হাসপাতালের মধ্যে অভয়াকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনার ২ বছর পেরিয়ে গেছে। এখনো মেয়ের খুনের বিচার চেয়ে লড়াই করে যাচ্ছেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ ও বাবা শেখর দেবনাথ। মেয়েকে বিচার পাইয়ে দিতেই রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত বলে বার বার করে জানান রত্না। পানিহাটি থেকে বিজেপি-র টিকিটে জয়ীও হয়েছেন তিনি। কিন্তু রাজ্যে বিজেপি-র সরকার আসার পরও, মেয়ের বিচার অধরা বলেই বৃহস্পতিবার দাবি করেন রত্না। পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক বলেন, ‘জলের মতো পরিষ্কার। বিচারব্যবস্থা কোনো দিকেই এগোচ্ছে না। সবাই বলেছিল, সরকার (তৃণমূল) থাকলে কিছু হবে না। পরিবর্তন হলে সব কিছু হবে। আমি কিছুতেই রাজি ছিলাম না। কোনো দিন রাজনীতির মঞ্চে পা দিতাম না আমরা। আমার মেয়ে পছন্দ করত না ওটা। ওর বাবার একটা ব্যবসা আছে। সব সময় বলত, ‘মা ওটায় রাজনীতি জড়িয়ে আছে। বাবাকে বারণ করবে। বারণ করবে বাপিকে। সেই মেয়ের এমন পরিণতি হল। আমি রাজনীতিতে পা দেব না। অনেকেই বাড়িতে বুঝিয়েছেন আমাকে। তাঁরা বলেছেন, ‘আমাদের বাংলা নর্দমা হয়ে গেছে। পড়াশোনার কোনো বালাই নেই। শিক্ষা-স্বাস্থ্য হারিয়ে গেছে’। সেটা তো জানলাম ৯ তারিখে আমার মেয়ের মৃত্যুর পর। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল বেরিয়ে এসেছে।’ সিবিআইয়ের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে অভয়ার মা ও বাবার। এবার আদালতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন রত্না। তাঁর বক্তব্য, ‘সিবিআই একটা কথা বার বার বলছে, ওরা ডাক্তার। ওদের এভাবে ধরা যাবে না। সেদিন বিচারকও বলেছেন, ওঁরা ডাক্তার। এভাবে ধরা যাবে না ওদের। আরে! যে মারা গিয়েছিল, সেও একজন ডাক্তার! যারা মেরেছিল ডাক্তার। তারা যদি ডাক্তার হয় ধরা যাবে না! তারা তো আগে ক্রিমিনাল! কেন আমাদের এই শাসনব্যবস্থা? এই ব্যবস্থা পালটানো দরকার।’ ৪ মাস হল রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। কিন্তু সেই পালাবদলে তাঁর আশা যে পূরণ হয়নি, তা জানিয়ে দিলেন পানিহাটির বিধায়ক। তবে অভয়ার পরিবার যতই অভিযোগ করুন আরজিকরকাণ্ডে এখনো তদন্ত চলছে। বৃহস্পতিবারই বেঙ্গালউরু থেকে গ্রেফতার হন তৃণমূলের কংগ্রেসের পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে। প্রমাণ লোপাট করতে তড়িঘড়ি মেয়ের দেহ দাহ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন অভয়ার মা-বাবা। সেই মামলাতেই গ্রেফতার করা হল সোমনাথকে। ওড়িশা, হায়দরাবাদ হয়ে বেঙ্গালউরু গিয়েছিলেন তিনি। এর আগে, এই মামলায় নির্মল ঘোষকে ওড়িশার বালেশ্বর থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। নতুন সরকার আসার পর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ‘অভয়াকাণ্ড’ নিয়ে ফের ফাইল খুলেছে। একের পর এক পদক্ষেপও নিচ্ছে প্রশাসন। কিছুদিন আগেই ৩ পুলিশ কর্তাকে সাসপেন্ড করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমনাথ দে গ্রেফতার প্রসঙ্গে পানিহাটির বিধায়ক বলেন, ‘এটা তো হওয়ারই ছিল। ও পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। ও গ্রেফতার হয়েছে ৩জন একদলে একসঙ্গে আমার মেয়ের শবদেহ সেদিন ওরা এনে জ্বালিয়ে দিয়েছিল। তিনি গ্রিন করিডর করে তার আমাদের এতো আত্মীয়-স্বজন বা পরিবারের সদস্যরা থাকা সত্ত্বেও কাউকে এলাউ করা হয়নি এমনকী, আমাদেরও এলাউ করা হয়নি। তাঁকে কে দায়িত্বটা দিল? কোথা থেকে অনুমতিটা পেলেন তিনি? গাড়ির চালককে উঠিয়ে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে আরজিকর থেকে ডেডবডিটা এখানে এনে ফেলে রাখলেন। আমরা তখন দ্বিতীয় পোস্টমর্টেম চেয়ে টালা থানায় বসে আছি। পুলিশ লেগেই ছিল। পুলিশের কোনো গাফিলতি নেই এখানে।’ এই প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর ফেসবুকে জানান, নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম-অভয়ার বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার সবরকম ব্যবস্থা করবে। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের দিকেই এগোচ্ছে পুলিশ। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে পরিকল্পিতভাবে তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করা হলেও সত্যেক চিরদিন চাপা দিয়ে রাখা যায় না। তদন্ত এগোবে, প্রকৃত সত্য সামনে আসবে এবং প্রকৃত অপরাধীকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে। অভয়ার ন্যায়বিচার শুধু একটি পরিবারের দাবি নয়-এটি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের দাবি।