কলকাতা: প্রতি বছর ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নানান বয়সের মানুষ কুকুরের কামড় খায়। অনেকের মৃত্যু হয় জলাতঙ্ক রোগে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিটেন ও ভারতের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথভাবে করা গবেষণায় দেখা গেছে, জলাতঙ্ক মুক্ত সমাজ গড়তে শিশুদের নির্বিচারে টিকাকরণের তুলনায় পথকুকুরদের গণটিকাকরণ অনেক বেশি লাভদায়ক, অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী ও কার্যকর। আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল জার্নাল ‘দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ সাউথইস্ট এশিয়া’য় প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাপত্র। ২০২৬-৩৫ সাল পর্যন্ত কেরলমের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি গাণিতিক মডেল হিসাবে ধরা হয়েছে ‘দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ সাউথইস্ট এশিয়া’ মেডিক্যাল জার্নালে। গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের জলাতঙ্কর টিকাকরণের পরিকল্পনা অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী ও কৌশলগত দিক থেকে লাভদায়ক নয়। কেরলমের শিশুদের টিকা দিতে বাড়তি...
কলকাতা: প্রতি বছর ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নানান বয়সের মানুষ কুকুরের কামড় খায়। অনেকের মৃত্যু হয় জলাতঙ্ক রোগে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিটেন ও ভারতের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথভাবে করা গবেষণায় দেখা গেছে, জলাতঙ্ক মুক্ত সমাজ গড়তে শিশুদের নির্বিচারে টিকাকরণের তুলনায় পথকুকুরদের গণটিকাকরণ অনেক বেশি লাভদায়ক, অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী ও কার্যকর। আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল জার্নাল ‘দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ সাউথইস্ট এশিয়া’য় প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাপত্র। ২০২৬-৩৫ সাল পর্যন্ত কেরলমের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি গাণিতিক মডেল হিসাবে ধরা হয়েছে ‘দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ সাউথইস্ট এশিয়া’ মেডিক্যাল জার্নালে। গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের জলাতঙ্কর টিকাকরণের পরিকল্পনা অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী ও কৌশলগত দিক থেকে লাভদায়ক নয়। কেরলমের শিশুদের টিকা দিতে বাড়তি প্রায় ১ কোটি মার্কিন ডলার খরচ হবে। কিন্তু এত ডলার খরচ করেও আগামী ১০ বছরে পুরোপুরি জলাতঙ্ক মুক্ত হবে কিনা, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কেরলমে কুকুরের কামড় খাওয়ার পর চিকিৎসার জন্য পোস্ট এক্সপোজার প্রোফিল্যাকসিস বা জরুরি টিকাকরণের চমৎকার পরিকাঠামো রয়েছে। শিশুদের তাই গণ টিকাকরণের প্রয়োজনীয়তা কম। শুধু দুর্গম প্রত্যন্ত এলাকা বা আদিবাসী এলাকায় বসবাসকারী শিশুদের জন্য যাদের জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছোতে দেরি হয়, শুধু তাদের প্রি এক্সপোজার প্রোফিল্যাকসিস বা জরুরি টিকাকরণের দরকার। গবেষণায় বলা হয়েছে, মানুষের শরীরে জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধ করতে একমাত্র উপায় হল ভাইরাসের মূল উৎস বন্ধ করা। এলাকার ৭০% পথকুকুরকে টিকা দিলেই ৩ বছরের মধ্যে জলাতঙ্কে মানুষের মৃত্যু হার শূন্যে নেমে আসবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) নিয়ম অনুযায়ী ১ সপ্তাহর সংক্ষিপ্ত পোস্ট এক্সপোজার প্রোফিল্যাকসিস বা জরুরি টিকাকরণ প্রক্রিয়া শুরু করলে আগামী ১০ বছর কেরলম সরকারের প্রায় ৫৮ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। এদিকে, ভারতের পড়শি দেশ ভুটানেও জলাতঙ্ক ছিল জনস্বাস্থ্যর বিরাট সমস্যা। কিন্তু ভুটান সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপে সম্প্রতি ভুটান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে প্রথম দেশ যে জলাতঙ্ক মুক্ত দেশ হিসাবে মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ‘হু’ গত ৪ সেপ্টেম্বর এই ঘোষণা করেছে। গত ২ বছরে ভুটানে কুকুরের কামড় থেকে জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে কারোর মৃত্যু হয়নি। শেষবার মৃত্যু হয়েছিল ২০২৩ সালের জুনে। এক সময় ভুটানে কুকুরের কামড় খেয়ে জলাতঙ্ক রোগ মহামারি ছিল। কিন্তু প্রশাসনের কড়া নজরদারি, ল্যাবরেটরি থেকে সঙ্গে সঙ্গে চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়া, পথ কুকুরদের নিয়মিত টিকাকরণ ও কুকুরের কামড় খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পোস্ট এক্সপোজার প্রোফিল্যাকসিস বা জরুরি টিকাকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখন ভুটানে কুকুরের কামড় খেয়ে জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে কারোর মৃত্যু হয় না।