নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: বাম আমলের ৩৪ বছরে বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসারে বাধা দেওয়া হয়েছে। ইংরেজিতেও তালাচাবি দিয়েছে। আর তৃণমূলের ১৫ বছরে তোষণের রাজনীতির শিকার হয়েছে স্কুলের সিলেবাস। ভাষাও বিকৃত করা হয়েছে। মাকে করেছে আম্মা, জলকে পানি, আকাশকে আসমান করে দিয়েছে। এভাবেই বিভাজন ঘটানো হয়েছে শিশুমনে। বৃহস্পতিবার গোলপার্কের রামকৃষ্ণ মিশনে আরএসএসের শাখা সংগঠন বিবেকানন্দ বিদ্যা ভারতী বিকাশ পরিষদের বার্ষিক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ ভাষাতেই আক্রমণ করলেন বাম ও তৃণমূলকে। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ১ বছরের মধ্যে আরএসএসের বিদ্যাভারতীর বিদ্যামন্দির সংখ্যা এ রাজ্যে ১ হাজারে পৌঁছোবে। এদিন বিবেকানন্দ বিদ্যা ভারতী বিকাশ পরিষদের বার্ষিক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত ২ সরকারের আমলে...
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: বাম আমলের ৩৪ বছরে বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসারে বাধা দেওয়া হয়েছে। ইংরেজিতেও তালাচাবি দিয়েছে। আর তৃণমূলের ১৫ বছরে তোষণের রাজনীতির শিকার হয়েছে স্কুলের সিলেবাস। ভাষাও বিকৃত করা হয়েছে। মাকে করেছে আম্মা, জলকে পানি, আকাশকে আসমান করে দিয়েছে। এভাবেই বিভাজন ঘটানো হয়েছে শিশুমনে। বৃহস্পতিবার গোলপার্কের রামকৃষ্ণ মিশনে আরএসএসের শাখা সংগঠন বিবেকানন্দ বিদ্যা ভারতী বিকাশ পরিষদের বার্ষিক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ ভাষাতেই আক্রমণ করলেন বাম ও তৃণমূলকে। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ১ বছরের মধ্যে আরএসএসের বিদ্যাভারতীর বিদ্যামন্দির সংখ্যা এ রাজ্যে ১ হাজারে পৌঁছোবে। এদিন বিবেকানন্দ বিদ্যা ভারতী বিকাশ পরিষদের বার্ষিক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত ২ সরকারের আমলে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা হয়েছে। কমিউনিস্টদের আমলে বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসারে বাধা পেয়েছিল। ইংরেজি ভাষাতেও তালাচাবি পড়েছিল। এমনকী কম্পিউটার শিক্ষার ওপরও বাধানিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। তৃণমূল আমলের ১৫ বছরের মধ্যে গত ১০ বছরে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়েও সরব হন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী আরো জানান, শিক্ষা ব্যবস্থাকে দূষিত করেছে তৃণমূল। স্কুলের সিলেবাসে সিঙ্গুর থেকে টাটাকে তাড়ানোর কথা থাকলেও ছিল না শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাপাধ্যায়ের আত্মবলিদানের কথা। জেলে যাওয়া পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম ছিল। কিন্তু ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরার নাম খুঁজতে পাতা ওলটাতে হত। মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মুসলিম ছাত্রদের স্কলারশিপ দেওয়া হত। বাকি ধর্মের ছাত্রদের এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা হত।
আর কিছুদিন এই শিক্ষাব্যবস্থা চললে বাংলার সংস্কার, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ, জাতীয়তাবাদ হারিয়ে যেত বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। সিলেবাস প্রসঙ্গ টেনে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পড়লেই ভয়ঙ্কর। মা-কে আম্মা, আকাশকে আসমান সিলেবাসে শেখানো হয়েছিল। বাচ্চাদের প্ল্যান করে ভাষার বিকৃতি শেখানো হয়েছিল। এমন শিক্ষাব্যবস্থা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বা স্বামী বিবেকানন্দ কোনো দিন ভাবেননি।’ তাঁর কথায়, ‘সঠিক সময়ে পরিবর্তন এসেছে। সঠিক সময়ে আমরা বেঁচে গেছি। বাংলাদেশের ইসলামিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে কোনো তফাৎ থাকত না।’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার প্রথমেই জাতীয় শিক্ষানীতি গ্রহণ করেছে। প্রার্থনায় পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক করেছে। বাংলায় সংস্কার প্রয়োজন, দেশপ্রেম ফেরাতে না পারলে ভয়ঙ্কর অবস্থা হবে। এছাড়াও তিনি স্পষ্ট করে দেন, বর্তমান সরকার পুঁথিগত বিদ্যায় বিশ্বাস করে না। যে শিক্ষার মধ্যে দিয়ে মানুষের চরিত্র গঠিত হয়, মানুষ স্বনির্ভর হতে পারে সেই শিক্ষাই সঠিক শিক্ষা। এনসিসিকে ব্যান করে তৃণমূল সরকার ‘ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ’ করেছে বলেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু। যাদবপুর নিয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলা নেতাজী, শ্যমাপ্রসাদের ভূমি। স্বামী বিবেকানন্দ কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছেন। আর এই ভূমিতে আপনি বলবেন কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি! পহেলগাম হলে মিছিল হয় না আর অপারেশন সিঁদুর হলে বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করুন। এগুলো আমাদের সহ্য করতে হবে? যাদবপুরের দেওয়ালে লিখবেন ফ্রি প্যালেস্টাইন? লিখুন ফ্রি পিওকে। সমর্থন করব।’ আগামী ১ বছরের মধ্যে আরএসএসের বিদ্যাভারতীর বিদ্যামন্দির সংখ্যা এ রাজ্যে ১ হাজারে পৌঁছোবে। এদিন গোলপার্কে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘর বিদ্যাবিকাশের বার্ষিক কার্যক্রমের মঞ্চ থেকে এমনটাই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি চান, আরএসএস গীতা বিতরণ, গোসালা নির্মাণ করুক রাজ্যজুড়ে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক পঞ্চায়েত, প্রত্যেক সাব ডিভিশনে, প্রত্যেক জেলা সদরে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যামন্দিরের পরিকাঠামো তৈরি হোক।’ মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, শিক্ষাক্ষেত্রে রাষ্ট্রবাদী মনোভাব রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘এই সরকার রাষ্ট্রবাদী সরকার, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মানববাদ, স্বামী প্রণবানন্দের পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির অবদানকে সঙ্গে নিয়ে এগোবে। বিদ্যাসাগরের নারী শিক্ষাকে আরো বেশি জনপ্রিয় করার জন্য কাজ করবে, স্বামী বিবেকানন্দর ভাবনায় চলবে। দেখতে থাকুন ধীরে ধীরে আলাদা করে কোনো মাদ্রাসা এডুকেশন সিস্টেম থাকবে না। সব বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষা দফতর দেখবে আর আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা করে দেখা হবে, এসব চলবে না। বিদ্যার্থী তো বিদ্যার্থী হয়, আলাদা করে মুসলিমদের কেন সংবর্ধনা জানানো হবে?’ তিনি জানান, রাজারহাটে একটি বিদ্যালয় তৈরির জন্য জমিও দেওয়া হবে সরকারের তরফে।