কলকাতা: অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, পোকামাকড়ের উপস্থিতি, পচা কাঁচা মাল ও ক্ষতিকর রঙের ব্যবহারের জন্য কলকাতায় ৪০টি নামি রেস্তরাঁ ও মিষ্টির দোকানের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করল রাজ্য সরকারের খাদ্য দফতর। গত ৪/৫ ধরেই কলকাতার একাধিক রেস্তরাঁ, হোটেল, শপিং মলের ফুড কোর্টে অভিযান চলছিল। অভিযান চালাচ্ছিল রাজ্যর স্বাস্থ্যদফতর, পুরসভাগুলি। কলকাতা পুরনিগম সূত্রে খবর, গত ৭ দিনে ১৬৭টি রেস্তরাঁ আর খাবারের হোটেলে হানা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ১৩০০ কেজি খাদ্য সামগ্রী নষ্ট করা হয়েছে, যেগুলি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এদের মধ্যে ৪০টি রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। সেই তালিকায় একাধিক নামি রেস্তরাঁ রয়েছে। তবে এই লাইসেন্স সাসপেনশন সাময়িক বলে জানা যাচ্ছে।...
কলকাতা: অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, পোকামাকড়ের উপস্থিতি, পচা কাঁচা মাল ও ক্ষতিকর রঙের ব্যবহারের জন্য কলকাতায় ৪০টি নামি রেস্তরাঁ ও মিষ্টির দোকানের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করল রাজ্য সরকারের খাদ্য দফতর। গত ৪/৫ ধরেই কলকাতার একাধিক রেস্তরাঁ, হোটেল, শপিং মলের ফুড কোর্টে অভিযান চলছিল। অভিযান চালাচ্ছিল রাজ্যর স্বাস্থ্যদফতর, পুরসভাগুলি। কলকাতা পুরনিগম সূত্রে খবর, গত ৭ দিনে ১৬৭টি রেস্তরাঁ আর খাবারের হোটেলে হানা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ১৩০০ কেজি খাদ্য সামগ্রী নষ্ট করা হয়েছে, যেগুলি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এদের মধ্যে ৪০টি রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। সেই তালিকায় একাধিক নামি রেস্তরাঁ রয়েছে। তবে এই লাইসেন্স সাসপেনশন সাময়িক বলে জানা যাচ্ছে। আজ, বুধবার একটি কর্মশালা হবে। সেখানে সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে সকলকে। তারপর আবার নতুন করে আবেদন জানাতে পারবে লাইসেন্স বাতিল সব রেস্তরাঁ ও মিষ্টির দোকান। তাতে যদি সব ঠিক থাকে, তাহলে ফুড লাইসেন্স দেওয়া হবে আবার। উল্লেখযোগ্য বাতিল রেস্তরাঁ ও খাবার দোকানগুলি হল, ‘করিমস’ কলকাতা পুরনিগমের সদর দফতরের কাছের ‘নিজামস’ নাগেরবাজারে ‘আরসালান’ আউটলেট, ‘বিগ বস রেস্তরাঁ’, ‘শিমলা বিরিয়ানি’, ‘বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক’, ‘ডন জিওভনি’, ‘মিষ্টিমুখ’, ‘জগবন্ধু মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’, ‘শ্রীহরি ফুড’, ‘গিরীশচন্দ্র দে’, ‘মাতৃ মিষ্টান্নভাণ্ডার’, ‘মিঠাই ভাণ্ডার’। তবে লাইসেন্স বাতিলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি করে যে কারণটি উঠে এসেছে, তা হল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি। আরশোলা, ইঁদুর, পোকামাকড় পাওয়া যাচ্ছে। পচা খাবার রাখা থাকতে দেখা গেছে, ছত্রাকযুক্ত পনির, মাছ-মাংসও পাওয়া গেছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন জায়গায় কালারিং এজেন্ট ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। দেওয়াল রং করতে ব্যবহৃত কার্সিনোজেনিক ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে মিষ্টির দোকান থেকে বিরিয়ানির রেস্তরাঁ ও খাবারের হোটেলগুলিতে। এই কার্সিনোজেনিক থেকে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আবার মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার আর মশলাপাতি ব্যবহারের ঘটনাও সামনে এসেছে। যাঁরা খাবার তৈরি করছেন, তাঁরাও স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না বলে অভিযোগ। মজুত রাখা খাবারে তারিখের উল্লেখও পাওয়া যায়নি বিভিন্ন জায়গায়। ফলে বাসি খাবার পাওয়া গেছে। ৩ বারের বেশি ব্যবহার না করার নিদান থাকলেও, পোড়া তেল ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছেন আধিকারিকরা। জানা যাচ্ছে, এর আগেও কার্সিনোজেনিক রং ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। একই সমস্যা পাওয়া গেছে ‘শিমলা বিরিয়ানি’, ‘নিজামস’এর খাবারেও। ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি বলে অভিযোগ। এ নিয়ে আগের তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন রাজ্যর বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। তাঁর কথায়, ‘বিগত দিনের সরকার এসব দেখত না। আমাদের সরকার, জনগণের সরকার। জনগণের স্বাস্থ্য, সুরক্ষার দায়িত্ব আমাদের। সব বিভাগকে বলা রয়েছে, সব হোটেল, রেস্তরাঁর খাবারের গুণমান যাচাই করতে হবে। পানীয় জলের মানদণ্ডও দেখা হবে। যারা খাবার পরীক্ষায় উতরোতে পারবেন, তাঁরা থাকবেন। যাঁরা পারবেন না তুলে দেওয়া হবে।’ মঙ্গলবার বিকেলে, কলকাতা পুরনিগমের কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে সাংবাদিক বৈঠক করে ওই ৪০টি নামী রেস্তরাঁ ও মিস্টির দোকানের লাইসেন্স সাময়িক বাতিলের কথা জানান।