কলকাতা: রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষক, আধিকারিক এবং অশিক্ষক কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড বা PF পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে পৃথক নিয়মের পরিবর্তে এবার প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচালনার জন্য একটি অভিন্ন ও সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো গড়ে তোলার পথে হাঁটছে নবান্ন। এই লক্ষ্যে কলকাতা গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি লজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’। প্রস্তাবিত এই সংশোধনী বিলের মাধ্যমে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান প্রভিডেন্ট ফান্ড সংক্রান্ত বিধিতে বড় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশোধিত ব্যবস্থা কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষক, আধিকারিক ও কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচালিত হবে ‘West Bengal Non-Government Educational Institutions and Local Authorities (Control of Provident...
কলকাতা: রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষক, আধিকারিক এবং অশিক্ষক কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড বা PF পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে পৃথক নিয়মের পরিবর্তে এবার প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচালনার জন্য একটি অভিন্ন ও সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো গড়ে তোলার পথে হাঁটছে নবান্ন। এই লক্ষ্যে কলকাতা গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি লজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’। প্রস্তাবিত এই সংশোধনী বিলের মাধ্যমে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান প্রভিডেন্ট ফান্ড সংক্রান্ত বিধিতে বড় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশোধিত ব্যবস্থা কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষক, আধিকারিক ও কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচালিত হবে ‘West Bengal Non-Government Educational Institutions and Local Authorities (Control of Provident Fund of Employees) Act, 1983’-এর বিধান অনুযায়ী।
কী পরিবর্তন আসছে?
বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে পৃথক নিয়ম ও বিধান রয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে একাধিক জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নতুন বিলের মাধ্যমে সেই ব্যবস্থায় সমন্বয় এনে রাজ্যজুড়ে একটি একই ধরনের আইনি কাঠামো চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিল অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল ১৯৮৩ সালের ওই আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্ডিন্যান্স বা অধ্যাদেশ জারি করতে পারবে। অর্থাৎ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো বজায় থাকলেও PF পরিচালনার ক্ষেত্রে মূল আইনি কাঠামো হবে অভিন্ন। এর ফলে প্রভিডেন্ট ফান্ড সংক্রান্ত নিয়ম, পরিচালন পদ্ধতি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও স্পষ্টতা আসতে পারে।
২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাব
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়-সহ মোট ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়।
ফলে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অধীনে থাকা শিক্ষক, আধিকারিক ও কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড ব্যবস্থাপনায় এই সংশোধনী কার্যকর হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
অর্থ দফতরের সঙ্গেও সমন্বয়
শুধু আইনি পরিবর্তন নয়, এই ব্যবস্থা কার্যকর করার ক্ষেত্রে বাজেট সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়গুলিও গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রয়োজনীয় আর্থিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য অর্থ দফতরের সঙ্গে পরামর্শ করার কথা বলা হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রভিডেন্ট ফান্ড ব্যবস্থাপনায় আইনি সামঞ্জস্য, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং শৃঙ্খলা আনা। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে PF সংক্রান্ত পৃথক নিয়মের কারণে যে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে, নতুন ব্যবস্থায় তা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, সংশোধনী বিলটি কার্যকর হলে রাজ্যের ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আধিকারিক এবং কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো তৈরি হবে। ফলে PF সংক্রান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও সুসংহত ও নির্দিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।