অমরাবতী: অমরাবতীর সরকারি হাসপাতালে ভয়াবহ আগুনে মৃত্যু ৩ সদ্যোজাত। গুরুতর জখম আরো ৬ শিশু। মৃতর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা। মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে সরকারি মহিলা হাসপাতালে সোমবার ভোররাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। হাসপাতালের স্পেশাল নিউবর্ন কেয়ার ইউনিটে (এসএনসিইউ) আগুন লাগায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। ভেন্টিলেটর বিস্ফোরণ থেকেই আগুন লেগেছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান। অগ্নিকাণ্ডর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল ৩৯ সময়ে জন সদ্যোজাত। তাদের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। গুরুতর আহত হয়েছে আরও ছয় শিশু। তাদের অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মহারাষ্ট্রর মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এই মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেন আর ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি মৃতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা...
অমরাবতী: অমরাবতীর সরকারি হাসপাতালে ভয়াবহ আগুনে মৃত্যু ৩ সদ্যোজাত। গুরুতর জখম আরো ৬ শিশু। মৃতর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা। মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে সরকারি মহিলা হাসপাতালে সোমবার ভোররাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। হাসপাতালের স্পেশাল নিউবর্ন কেয়ার ইউনিটে (এসএনসিইউ) আগুন লাগায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। ভেন্টিলেটর বিস্ফোরণ থেকেই আগুন লেগেছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান। অগ্নিকাণ্ডর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল ৩৯ সময়ে জন সদ্যোজাত। তাদের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। গুরুতর আহত হয়েছে আরও ছয় শিশু। তাদের অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মহারাষ্ট্রর মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এই মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেন আর ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি মৃতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার উচ্চ-পর্যায়ের তদন্তরও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফড়নবিশ বলেন, ‘অমরাবতীর জেলা মহিলা হাসপাতালে গতকাল রাতে অগ্নিকাণ্ডে ৩ শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। আমরা তাদের পরিবারের শোকের অংশীদার। এই ঘটনার উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত করার জন্য স্বাস্থ্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যসচিব উভয়কেই আজই অমরাবতী পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’৫ পাতায়ফড়নবিশ আরো জানান, তদন্তর মাধ্যমে এই ঘটনার জন্য দায়ী কে বা কারা তা জানা যাবে আর যাঁরা দায়ী সাব্যস্ত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্য সরকার মৃতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়া, জখম শিশুদের সরকারি খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য অমরাবতীর জেলাশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সৌভাগ্যর, এই ঘটনায় ৩৬ জন শিশুকে অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’
সোমবার ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ দুর্ঘটনা ঘটে। সেই সময় হাসপাতালের স্পেশাল নিউবর্ন কেয়ার ইউনিটে ৩৯ জন সদ্যোজাত চিকিৎসাধীন ছিল। আগুন লাগার খবর পেয়েই হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স আর অন্য কর্মীরা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা শিশুদের ভেন্টিলেটর থেকে সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এসএনসিইউ-র একটি ভেন্টিলেটরে আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে। এর পরই সেখানে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় ভরে যায় সংশ্লিষ্ট এলাকা। সদ্যোজাতদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় তাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়াই ছিল বড়ো চ্যালেঞ্জ। তবে দ্রুত পদক্ষেপের ফলে অধিকাংশ শিশুকে আগুনের কবল থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের পর ৬ সদ্যোজাতের অবস্থার অবনতি হওয়ায় কাছাকাছি একটি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ৩ সদ্যোজাতকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও তাঁদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। একটি সূত্রের খবর, আগুনে ঝলসে ও দমবন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। মৃত্যুর কারণ জানতে দেহ ৩টি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডর খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল চত্বরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিজনরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর তরফে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে শিশুদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ভেন্টিলেটরে ঠিক কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর কোনো ধরনের গাফিলতি বা অবহেলা ছিল কিনা,তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।