চিনে ভারতীয় দূতাবাসের চালু করা ২টি হেল্পলাইন
০০৮৬-৮৯১-৬৮১৭১৬৫/০০৮৬-১৮৩-০৮০২-৬৭০৫
কাঠমান্ডু: যতদিন পার হচ্ছে, ততই বাড়ছে মৃতর সংখ্যা। নতুন নতুন করে জানা যাচ্ছে নিখোঁজের খবর। বাড়ছে উদ্বেগ। রবিবার ভারত সরকারের বিদেশমন্ত্রক বিকেল সাড়ে ৫টায় এক টুইট বার্তায় জানায়, এখনো পর্যন্ত ১৪৯জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের সবার নামের তালিকাও এক্সে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, এদিন চিনের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যর পর নেপাল ও তিব্বতে মৃতর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৮। ২ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ। চিনা কর্তৃপক্ষ গিরঙে ১৬ জনের মৃত্যু ও ৫৪৬ জনের নিখোঁজ হওয়ার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা শনিবার গভীর রাতে জানিয়েছিল যে সেখানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৫ হয়েছে...
চিনে ভারতীয় দূতাবাসের চালু করা ২টি হেল্পলাইন
০০৮৬-৮৯১-৬৮১৭১৬৫/০০৮৬-১৮৩-০৮০২-৬৭০৫
কাঠমান্ডু: যতদিন পার হচ্ছে, ততই বাড়ছে মৃতর সংখ্যা। নতুন নতুন করে জানা যাচ্ছে নিখোঁজের খবর। বাড়ছে উদ্বেগ। রবিবার ভারত সরকারের বিদেশমন্ত্রক বিকেল সাড়ে ৫টায় এক টুইট বার্তায় জানায়, এখনো পর্যন্ত ১৪৯জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের সবার নামের তালিকাও এক্সে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, এদিন চিনের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যর পর নেপাল ও তিব্বতে মৃতর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৮। ২ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ। চিনা কর্তৃপক্ষ গিরঙে ১৬ জনের মৃত্যু ও ৫৪৬ জনের নিখোঁজ হওয়ার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা শনিবার গভীর রাতে জানিয়েছিল যে সেখানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৫ হয়েছে আর ২৫০২ জন নিখোঁজ এরমধ্যে অনেক ভারতীয়ও রয়েছেন। এখনো পর্যন্ত নেপালে ৯৪৩৫ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ত্রাণ কেন্দ্রগুলিতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা তাঁদের প্রিয়জনদের খবরের অপেক্ষায় উদ্বিগ্ন হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। কারণ, মৃতের সংখ্যা ও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ইউনিসেফ সতর্ক করেছে যে অন্তত ১৭০০০ শিশুর জরুরি মানবিক সহায়তার প্রয়োজন। বন্যায় ২০টি স্কুল পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ও আরো ২০টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলির হাজার হাজার শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ দ্য রেড ক্রসের হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে অন্তত ৯৩০০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া বেঁচে যাওয়া কিছু মানুষের কাছে এখন মানবিক সহায়তা পৌঁছাচ্ছে, যদিও প্রয়োজনের তুলনায় তা এখনো অপর্যাপ্ত। প্রশাসন জানিয়েছে, জলস্রোতে ভেসে আসা দেহগুলি মূল নদীর নিম্ন অববাহিকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দেহ উদ্ধার হয়েছে চিতবন থেকে। সংখ্যাটা ২৫৯জন। এ ছাড়া নওয়ালপরাসি পূর্বে ১৮৪জন, নওয়াবপরাসি পশ্চিমে ৮২জন, গোর্খায় ৫৮জন, নুয়াকোটে ৫২জন, ধাডিংয়ে ৫০জন, তানাহনে ৩৬জন ও রাসুয়া থেকে ১৩টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি রসুয়ায় (৫৬২ জন)। এ ছাড়া নুয়াকোটে নিখোঁজ ১১৫ জন। আর মাকওয়ানপুরে ৬৫ জন। নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন ১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৯৩৩ জন কর্মী, ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক ও ১২৭ জন নেপালি গাইড। উদ্ধারকারী দলের ৮৫ জন নিরাপত্তাকর্মীও নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে নেপালি সেনার ৪৫ জন, নেপাল পুলিশের ২৭ জন ও সশস্ত্র পুলিশ বলের ১৩ জন রয়েছেন। নেপাল সরকার জানিয়েছে, টানা দু’দিনের চেষ্টায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা ২৭৯ জন উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। হেলিকপ্টারে উদ্ধার করা হয়েছে ২২৭ জন বিদেশি নাগরিককে।
আকস্মিক বন্যায় নিহতদের দেহ শনাক্ত ও ডিএনএ টেস্টের জন্য নেপালে একটি ফরেনসিক দল পাঠানো হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, নেপালে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব বন্যাদুর্গত দেশটিতে যাওয়া ভারতীয় ফরেনসিক দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্সে জানান, মৃতদের শনাক্ত করতে ডিএনএর নমুনা বিশ্লেষণের কাজে দলটি নেপালের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। এরপরই শনিবার মধ্যরাতে হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপালে সহায়তা সামগ্রী নিয়ে চতুর্থ বিমান পাঠায় ভারত। ভারতীয় বায়ুসেনার একটি সি-১৩০ বিমানে করে ১১ টন ওজনের উদ্ধারকাজের সরঞ্জাম। ফরেনসিক সামগ্রী ও ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। রবিবার চিনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ২টি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে। সেগুলি হল: ০০৮৬-৮৯১-৬৮১৭৬৫ ও ০০৮৬-১৮৩০৮০২-৬৭০৫। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সোশালে জানান, ২৩০ফুট দীর্ঘ একটি ‘সিঙ্গল লেন মডিউলার স্টিল ব্রিজ’ তৈরির সরঞ্জামবাহী ১৬টি ট্রাক নেপালে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, আরো ৭টি বেইলি সেতু তৈরির সরঞ্জাম খুব শিগগিরই সেখানে পাঠনো হবে। ভারত এ পর্যন্ত নেপালে মোট ৬৮.৫টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে।