অংশুমান বাগচী: কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিবিটি (DBT) দ্বারা অর্থায়িত বিআইএফ (BIF)-এর উদ্যোগে ‘বায়োলজিক্যাল ডেটা অ্যানালিসিস’ বিষয়ে ৫ দিনের জাতীয় কর্মশালা কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োইনফরমেটিক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফ্যাসিলিটি (BIF)-এর উদ্যোগে ১৭ থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত ‘বায়োলজিক্যাল ডেটা অ্যানালিসিস’ (জীববৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ) নামে একটি কর্মশালা হয় ৫দিন জুড়ে। এই কর্মশালায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের শিক্ষার্থী আর শিক্ষক-সহ বিভিন্ন শিক্ষাগত পটভূমির অংশগ্রহণকারীরা যোগ দেন। ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আয়োজিত এই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের প্রোগ্রামিং আর কম্পিউটেশনাল পদ্ধতির মৌলিক সব বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত করা হয়, যা জীববৈজ্ঞানিক ডেটাসেট পরিচালনা, প্রক্রিয়াজাতকরণ আর বিশ্লেষণের জন্য দরকারি। কর্মশালার সব অধিবেশন এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যাতে অংশগ্রহণকারীরা জীববৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে...
অংশুমান বাগচী: কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিবিটি (DBT) দ্বারা অর্থায়িত বিআইএফ (BIF)-এর উদ্যোগে ‘বায়োলজিক্যাল ডেটা অ্যানালিসিস’ বিষয়ে ৫ দিনের জাতীয় কর্মশালা কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োইনফরমেটিক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফ্যাসিলিটি (BIF)-এর উদ্যোগে ১৭ থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত ‘বায়োলজিক্যাল ডেটা অ্যানালিসিস’ (জীববৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ) নামে একটি কর্মশালা হয় ৫দিন জুড়ে। এই কর্মশালায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের শিক্ষার্থী আর শিক্ষক-সহ বিভিন্ন শিক্ষাগত পটভূমির অংশগ্রহণকারীরা যোগ দেন। ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আয়োজিত এই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের প্রোগ্রামিং আর কম্পিউটেশনাল পদ্ধতির মৌলিক সব বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত করা হয়, যা জীববৈজ্ঞানিক ডেটাসেট পরিচালনা, প্রক্রিয়াজাতকরণ আর বিশ্লেষণের জন্য দরকারি। কর্মশালার সব অধিবেশন এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যাতে অংশগ্রহণকারীরা জীববৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা পেতে পারেন আর এমন ব্যবহারিক দক্ষতা গড়ে তুলতে পারেন যা তাঁদের শিক্ষা ও গবেষণার কাজে সরাসরি প্রয়োগ করা সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কল্লোল পাল এই কর্মশালা আয়োজনে সর্বাত্মক সহায়তা দেন। কল্যাণী
বিশ্বদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের স্নাতকোত্তর শিক্ষা বিভাগের ডিন অধ্যাপক কুমারেশ ঘোষ তাঁর মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেন। বিআইএফ (BIF) কেন্দ্রর সমন্বয়কারী অধ্যাপক অংশুমান বাগচী কেন্দ্রর কার্যক্রম, উদ্দেশ্য আর গবেষণাভিত্তিক সব উদ্যোগের একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেন। উদ্বোধনী বক্তৃতায় অধ্যাপক বাগচী কর্মশালার বিষয়বস্তু সম্পর্কেও তাঁর মূল্যবান মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের জৈবপ্রযুক্তি বিভাগের (Department of Biotechnology) প্রতি তাঁদের অব্যাহত আর্থিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। অধ্যাপক বাগচী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের দেওয়া মূল্যবান সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন আর বিশেষ করে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বিভাগের (Finance Section) প্রতিকৃতজ্ঞতা জানান, যাদের সহযোগিতা এই কর্মসূচি সফলভাবে আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। কর্মশালায় মূল বক্তৃতা (Keynote lecture) দেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU), নয়াদিল্লির ‘স্কুল অফ কম্পিউটেশনাল অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভসায়েন্সেস’এর অধ্যাপক শান্দার আহমেদ। তাঁর বক্তৃতার বিষয় ছিল জীববিজ্ঞানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর প্রয়োগ। বিশিষ্ট বিজ্ঞানী আর
‘ন্যাশনাল সায়েন্স চেয়ার’ অধ্যাপক পার্থপ্রতিম মজুমদার জীববৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণের পরিসংখ্যানগত ভিত্তির ওপর একটি বিশেষ বক্তৃতা দেন। এছাড়া অন্যান্য বিশিষ্ট বিজ্ঞানীদের মধ্যে কল্যাণীর এনআইবিএমজি (NIBMG)-এর অধ্যাপক অনলাভবসু আর রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. সৌমিতা পোদ্দার এই বিষয়ের ওপর অত্যন্ত তথ্যবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা দেন। কল্যাণীর জেআইএস (JIS) কলেজের ড.অন্বেষা ব্যানার্জির পাশাপাশি বিআইএফ (BIF)-এর সদস্যরা যেমন শ্রীকন্যা রায়, অনির্বাণ নন্দী, জিত মণ্ডল, স্বিয়া হোসেন, মহাশ্বেতা ঘোষ, ড. দীপঞ্জন গুহ আর ড. অনিরুদ্ধ বিশ্বাস এই ব্যবহারিক ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের আয়োজন ও পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীরা মিথস্ক্রিয়ামূলক প্রদর্শন, নির্দেশিত অনুশীলন আর ব্যবহারিক সেশনের মাধ্যমে জৈবিক ডেটাসেট বিশ্লেষণ আর বাস্তব জীবনের জৈবিক সমস্যা সমাধানে কম্পিউটেশনাল পদ্ধতি প্রয়োগের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। কর্মশালা শেষে, সফলভাবে কর্মসূচি শেষ করার স্বীকৃতি হিসাবে সব অংশগ্রহণকারীকে সনদপত্র দেওয়া হয়। জৈবিক ডেটাসেট বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে সুশৃঙ্খল ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবিটি (DBT) অর্থায়িত বিআইএফ (BIF) কম্পিউটেশনল বায়োলজি ও বায়োইনফরমেটিক্স ক্ষেত্রে দক্ষ আর গবেষণার জন্য প্রস্তুত জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখছে। দ্রুত বর্ধনশীল জৈবিক ডেটার এই যুগে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জিনোমিক্স, ওষুধ আবিষ্কার, প্রিসিশন মেডিসিন, রোগ পূর্বাভাস আর আধুনিক জীবনবিজ্ঞানের অন্যান্য ডেটা-নির্ভর ক্ষেত্রে গবেষণাকে এগিয়ে নিতে কম্পিউটেশনাল পদ্ধতির দক্ষতা ক্রমশ অপরিহার্য হয়ে উঠছে। ৫দিনের এই কর্মশালার সফল সমাপ্তি সক্ষমতা বাড়ানো, আন্তঃবিভাগীয় শিক্ষা আর জৈবিক গবেষণায় কম্পিউটেশনাল পদ্ধতির প্রসারের ক্ষেত্রে বিআইএফ (BIF)-এর অব্যাহত প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।