সৈকত হালদার
বেশি ফলনের পর টমেটো, বিট, গাজরের মতো ছোটো সবজি মিনি হিমঘরে রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। এ ধরনের সবজি ছোটো হিমঘরে রেখে দিলে আরো ৩ থেকে ৪ মাস ভালো রাখা যাবে। এখন থেকে আর আলু রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা নেই। ২৪ আগস্ট কলকাতা চেম্বার অফ কমার্স আয়োজিত ‘পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসায় সুযোগ’ নামে এক আলোচনা সভায় রাজ্যর পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও কৃষি বিপণন দফতরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এ কথা জানান। তিনি জানান, ‘রাজ্যে কৃষিক্ষেত্রে জড়িত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উন্নয়নে রাজ্য সরকার সব সময় চেষ্টা চালাবে। সাড়ে ১২ লাখ স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে ঋণ দেওয়ার পর...
সৈকত হালদার
বেশি ফলনের পর টমেটো, বিট, গাজরের মতো ছোটো সবজি মিনি হিমঘরে রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। এ ধরনের সবজি ছোটো হিমঘরে রেখে দিলে আরো ৩ থেকে ৪ মাস ভালো রাখা যাবে। এখন থেকে আর আলু রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা নেই। ২৪ আগস্ট কলকাতা চেম্বার অফ কমার্স আয়োজিত ‘পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসায় সুযোগ’ নামে এক আলোচনা সভায় রাজ্যর পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও কৃষি বিপণন দফতরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এ কথা জানান। তিনি জানান, ‘রাজ্যে কৃষিক্ষেত্রে জড়িত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উন্নয়নে রাজ্য সরকার সব সময় চেষ্টা চালাবে। সাড়ে ১২ লাখ স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে ঋণ দেওয়ার পর সরকার সেই ঋণ আদায়ের চেষ্টা করত না। সেই সুযোগ নিত কিছু স্বনির্ভর গোষ্ঠী। আমরা অবশ্যই তাঁদের পাশে থাকব। দরকারে একবার ঋণ দেওয়ার পর ব্যবসা মার খেলে ফের ঋণ দেওয়া হবে। কিন্তু তাদের ঋণ শোধ করতে হবে।’ বিভাগীয় মন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্যে ১৮৬টি কৃষক বাজারে ফাঁকা পড়ে রয়েছে। সেখানে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র করা হবে। কোনো বেকার ছেলেমেয়ে যদি ব্যবসা করতে চান তবে জায়গা করে দেব। সেক্ষেত্রে বিদ্যুতের বিল জমা দিতে হবে। সরকার উদ্যোগীদের ব্যবসা করার জন্য সব ধরনের সাহায্য করবে।’ এদিন বিভাগীয় মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ পশ্চিমবঙ্গর অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরো শক্তিশালী করতে সরকারের বিভিন্ন নীতি, কর্মসূচি ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি কৃষি, গ্রামোন্নয়ন, কৃষি বিপণন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদীয়মান সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। বিনিয়োগ, উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। মন্ত্রী ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারের বিভিন্ন নীতি, সুযোগ-সুবিধা, প্রণোদনা ও সহায়তা প্রকল্পর বিষয়েও অবহিত করেন। পশ্চিমবঙ্গর অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আর অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার ও ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার দরকার রয়েছে বলে তিনি জানান। অধিবেশনে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সরাসরি মন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ হয়। বিনিয়োগ, ব্যবসা সম্প্রসারণ, সরকারি সহায়তা ও রাজ্যে নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার শুরুতে কলকাতা চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি অনন্ত সাহারিয়া বলেন, ‘কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, দক্ষ কর্মশক্তি, উন্নত পরিকাঠামো আর ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের কারণে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ ও ব্যবসার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। রাজ্যর অর্থনৈতিক বিকাশকে আরো গতিশীল করতে সরকার ও শিল্পমহলের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি জানান।অনুষ্ঠানের শেষে অনুরাগ ঝুনঝুনওয়ালা সকলকে ধন্যবাদ জানান।