সুখবর ব্যুরো: সরকারি জনগণনার সূত্রে পাওয়া অভিজ্ঞতাকে স্রেফ খাতায় তুলে ক্ষান্ত না থেকে, ১৭ বছরের এক স্কুলছুট ছাত্রীকে ফের শিক্ষার আলোয় ফিরিয়ে আনলেন তিনি। ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার। বান্দোয়ান ব্লকের কুমড়া অঞ্চলের প্রত্যন্ত কান্দয়া গ্রামে জনগণনার কাজে এক বাড়িতে সার্ভে করতে যান বান্দোয়ানের চুড়কু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা উমা মণ্ডল। সেখানেই তাঁর চোখ পড়ে চন্দনা সিং নামে ওই তরুণীর ওপরে। কথা বলে তিনি জানতে পারেন, চূড়ান্ত দারিদ্রের জেরে অষ্টম শ্রেণির পরেই থমকে গিয়েছে তার পড়াশোনা। বাবার মৃত্যুর পরে পরিবারে এখন আর কোনো উপার্জনক্ষম পুরুষ মানুষ নেই।
পড়াশোনারআগ্রহ থাকলেও আর্থিক প্রতিকূলতা তাকে অকালেই স্কুলছুট করে দিয়েছিল। মেয়েটির করুণ পরিস্থিতি আর পড়াশোনার...
সুখবর ব্যুরো: সরকারি জনগণনার সূত্রে পাওয়া অভিজ্ঞতাকে স্রেফ খাতায় তুলে ক্ষান্ত না থেকে, ১৭ বছরের এক স্কুলছুট ছাত্রীকে ফের শিক্ষার আলোয় ফিরিয়ে আনলেন তিনি। ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার। বান্দোয়ান ব্লকের কুমড়া অঞ্চলের প্রত্যন্ত কান্দয়া গ্রামে জনগণনার কাজে এক বাড়িতে সার্ভে করতে যান বান্দোয়ানের চুড়কু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা উমা মণ্ডল। সেখানেই তাঁর চোখ পড়ে চন্দনা সিং নামে ওই তরুণীর ওপরে। কথা বলে তিনি জানতে পারেন, চূড়ান্ত দারিদ্রের জেরে অষ্টম শ্রেণির পরেই থমকে গিয়েছে তার পড়াশোনা। বাবার মৃত্যুর পরে পরিবারে এখন আর কোনো উপার্জনক্ষম পুরুষ মানুষ নেই।
পড়াশোনারআগ্রহ থাকলেও আর্থিক প্রতিকূলতা তাকে অকালেই স্কুলছুট করে দিয়েছিল। মেয়েটির করুণ পরিস্থিতি আর পড়াশোনার অদম্য ইচ্ছা দেখে মুহূর্তেই সিদ্ধান্ত নেন উমা, যে কোনো উপায়ে চন্দনাকে আবার শিক্ষার মূল স্রোতে ফেরাতে হবে। সময় নষ্ট না করে সে দিনই তিনি যোগাযোগ করেন বান্দোয়ান-১ চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক বিশ্বজিৎ দাস ও রাজগ্রাম হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাজীবকুমার মণ্ডলের সঙ্গে। জানা যায়, মঙ্গলবারই ছিল পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের শেষ দিন। আর এক মুহূর্তও দেরি না-করে উমা তড়িঘড়ি চন্দনাকে নিয়ে হাজির হন রাজগ্রাম হাইস্কুলে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলে নথিপত্র জোগাড় ও ভরতি প্রক্রিয়ার কাজ। শেষ মুহূর্তে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হওয়ায় নবম শ্রেণিতে নতুন করে জীবনের খাতা খোলে চন্দনা। রাজগ্রাম হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করে রাত পর্যন্ত কাজ চালিয়ে রেজিস্ট্রেশন করানো সম্ভব হয়। কুর্নিশ জানাই ওই শিক্ষিকাকে। তিনি এভাবে তোড়জোড় না-করলে হয়তো মেয়েটির পড়াশোনা আর শুরুই হতো না।’ শিক্ষিকার এই ভূমিকায় আবেগপ্লুত চন্দনার মা শ্রীমতি সিং। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আর্থিক দুরবস্থার জন্য মেজো মেয়েকে অষ্টম শ্রেণির পর আর পড়াতে পারিনি। অথচ ওর পড়াশোনার খুব ইচ্ছে ছিল। ম্যাডাম এসে আবার নতুন করে মেয়ের পড়ার ব্যবস্থা করে দিলেন।’ শিক্ষিকার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান বান্দোয়ান-১ চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকও। তাঁর কথায়, ‘শিক্ষিকা হিসেবে উমা মণ্ডল নজির গড়েছেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এমন সামাজিক কর্তব্য পালন সত্যিই প্রশংসনীয়।’ তবে শুধু স্কুলে ভরতি করেই দায় সারছেন না উমা। আগামী দিনে চন্দনা ঠিকমতো পড়াশোনা চালাতে পারছে কি না, সেদিকেও নজর রাখবেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘মেয়েটিকে তীব্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। বাবা মারা গেছেন, পরিবারে কোনো পুরুষ মানুষ নেই। তাই ওর পড়াশোনার ক্ষেত্রে যাতে আর কোনো বাধা না আসে, তা আমাদের সবাইকে মিলে দেখতে হবে।’ সরকারি কাজের ছকে বাঁধা কর্তব্যর মাঝে উমা মণ্ডলের এই মানবতা ও তৎপরতা প্রমাণ করে দিল- সদিচ্ছা থাকলে এক দিনেই বদলে দেওয়া যায় একটি থমকে যাওয়া ভবিষ্যৎ।