শ্রাবণের শেষ সোমবারে তারাপীঠে পুজো দিতে গিয়ে ‘বিদেশিনী’ নামের একটি পাঁচতলা হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত আট জন পুণ্যার্থী। মর্মান্তিক এই ঘটনার পরই গাফিলতি ও সুরক্ষাবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হল হোটেলের মালিক কল্যাণ পালকে।পুলিশ ও দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ ওই পাঁচতলা হোটেলে আগুন লাগে। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের উৎপত্তি। মুহূর্তে তা একতলা ও দোতলায় ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রচণ্ড ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা বিল্ডিং। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ও দমকলকর্মীরা মোট ২২ জনকে উদ্ধার করে রামপুরহাট হাসপাতালে নিয়ে যান, যাঁদের মধ্যে ৯ জন সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিলেন। এ পর্যন্ত দুই শিশু, এক নারী...
শ্রাবণের শেষ সোমবারে তারাপীঠে পুজো দিতে গিয়ে ‘বিদেশিনী’ নামের একটি পাঁচতলা হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত আট জন পুণ্যার্থী। মর্মান্তিক এই ঘটনার পরই গাফিলতি ও সুরক্ষাবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হল হোটেলের মালিক কল্যাণ পালকে।পুলিশ ও দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ ওই পাঁচতলা হোটেলে আগুন লাগে। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের উৎপত্তি। মুহূর্তে তা একতলা ও দোতলায় ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রচণ্ড ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা বিল্ডিং।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ও দমকলকর্মীরা মোট ২২ জনকে উদ্ধার করে রামপুরহাট হাসপাতালে নিয়ে যান, যাঁদের মধ্যে ৯ জন সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিলেন। এ পর্যন্ত দুই শিশু, এক নারী এবং পাঁচ পুরুষ-সহ মোট আট জন পুণ্যার্থীর মৃত্যুর খবর মিলেছে। তাঁরা প্রত্যেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে তারাপীঠে পুজো দিতে এসেছিলেন। বর্তমানে রামপুরহাট হাসপাতালে দুই জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন, বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
নিজের সাফাইতে ধৃত হোটেলমালিক কল্যাণ পালের দাবি, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল না। আগুন লাগার পরপরই কর্মীরা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন, যার ফলে চারপাশ অন্ধকারে ডুবে যায়। অন্ধকারে আবাসিকেরা পিছনের দরজা খুঁজে না পেয়ে সামনে রিসেপশনের দিক দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করেন এবং আগুনের মুখে পড়েন। তবে আবাসিকদের তোলা দরজা বন্ধ থাকার মূল অভিযোগ নিয়ে তিনি কোনও স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। আপাতত হোটেলমালিককে হেফাজতে নিয়ে ঘটনার পেছনে আসল কারণ ও গাফিলতি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
উদ্ধার পাওয়া আবাসিকদের একাংশের গুরুতর অভিযোগ, বিপদের সময়ে হোটেলের পিছনের জরুরি বেরোনোর দরজাটি বন্ধ ছিল। ফলে প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা তড়িঘড়ি বাইরে বেরোতে পারেননি। ঘটনার তদন্তে নেমে দমকল আধিকারিকেরা জানান, হোটেলটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে দু’টি সিঁড়ি ছিল। তবে সিঁড়ির সংলগ্ন জানলাগুলি বন্ধ থাকায় ভেতরে জমে থাকা ধোঁয়া বাইরে বেরোতে পারেনি। ফলে মারাত্মক ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়েই বেশির ভাগ আবাসিক সংজ্ঞাহীন ও অসুস্থ হয়ে পড়েন।