বুনিয়াদপুর: ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। উদ্যোগটাই আসল কথা। প্রমাণ করে দিলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুর কলেজের কয়েকজন পড়ুয়া। পকেটে টাকা কম। কিন্তু বুকে সাহস অনেক। পড়াশোনার ফাঁকে রাস্তায়, বাসস্ট্যান্ডে বা পার্কে ‘ইউ হেল্প আস’ লেখা বাক্স নিয়ে ঘোরেন রামিস ইসলাম, দীপক বৈশ্য, ইমানুর আমিনরা। বছর কয়েক আগে নিজেরা চাঁদা তুলে শুরু করেছিলেন সমাজসেবা। নাম দিয়েছিলেন ‘আশার আলো’। এখন তাঁদের লড়াই ২ শিশুকে ঘিরে। নারায়ণপুরের ৫বছরের ঋষিরাজ দাস। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। ডাক্তাররা বলেছেন, বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করাতে হবে। খরচ প্রায় ৪৮ লাখ টাকা। বাবা দেবরাজ দাস টোটো চালান। এই টাকা জোগাড় করা তাঁর কাছে স্বপ্ন। সেই স্বপ্নে ভরসা জোগাচ্ছে ‘আশার আলো’। এখনো পর্যন্ত ৪৫...
বুনিয়াদপুর: ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। উদ্যোগটাই আসল কথা। প্রমাণ করে দিলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুর কলেজের কয়েকজন পড়ুয়া। পকেটে টাকা কম। কিন্তু বুকে সাহস অনেক। পড়াশোনার ফাঁকে রাস্তায়, বাসস্ট্যান্ডে বা পার্কে ‘ইউ হেল্প আস’ লেখা বাক্স নিয়ে ঘোরেন রামিস ইসলাম, দীপক বৈশ্য, ইমানুর আমিনরা। বছর কয়েক আগে নিজেরা চাঁদা তুলে শুরু করেছিলেন সমাজসেবা। নাম দিয়েছিলেন ‘আশার আলো’। এখন তাঁদের লড়াই ২ শিশুকে ঘিরে। নারায়ণপুরের ৫বছরের ঋষিরাজ দাস। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। ডাক্তাররা বলেছেন, বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করাতে হবে। খরচ প্রায় ৪৮ লাখ টাকা। বাবা দেবরাজ দাস টোটো চালান। এই টাকা জোগাড় করা তাঁর কাছে স্বপ্ন। সেই স্বপ্নে ভরসা জোগাচ্ছে ‘আশার আলো’। এখনো পর্যন্ত ৪৫ হাজার টাকা তুলে ঋষির পরিবারের হাতে দিয়েছেন তাঁরা। দ্বিতীয় শিশু জয়ী দেবনাথ। ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত। কলকাতার হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। বাবা শ্যামল দেবনাথ পেশায় কৃষক। মেয়েকে নিয়ে কলকাতায় পড়ে থাকতে হচ্ছে তাঁকে। জয়ীর পরিবারকেও ১২ হাজার টাকা ও বাজারসামগ্রী তুলে দিয়েছেন পড়ুয়ারা। শুধু শিশু নয়, আরো ২প্রবীণ অসহায় মহিলার চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার কাজও শুরু করেছেন তাঁরা। এই কাজে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে গঙ্গারামপুরের ‘লতা মাসির বৃহন্নলা টিম’ ও বংশীহারি থানার পুলিশও। স্বাধীনতা দিবসে বুনিয়াদপুর ও কুশমন্ডির অনাথ আশ্রম, বাসস্ট্যান্ডে প্রায় ৬০০ পথচারী ও গরিব মানুষের হাতে খিচুড়ি তুলে দেন সদস্যরা। দীপকের কথায়, ‘সামর্থ্য লাগে না, লাগে ইচ্ছে। সবাই একটু একটু করে দিলেই একটা মানুষের মুখে হাসি ফোটে।’ ঋষির বাবা শ্যামল বলেন, ‘ওরা ছাত্র, কিন্তু যে বড়ো মনের পরিচয় দিচ্ছে, তা ভোলার নয়।’ জয়ীর বাবা সজলের মন্তব্য, ‘টাকা থাকলেই সমাজসেবা হয় না। ইচ্ছে থাকতে হয়। আশার আলো তার প্রমাণ।’ বুনিয়াদপুর পুরসভার নারায়ণপুর এলাকার বাড়ি সকলের। কয়েকজন বন্ধু মিলে তৈরি হওয়া ‘আশার আলো’ এখন অনেকের আশা জুগিয়েছে। ইমানুর বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে আমরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। আমাদের তো টাকা নেই তাই মানুষের কাছে সাহায্য চাই অন্য মানুষের জন্য।’