শুরুটা বেশ ভালই করেছিলেন। কিন্তু বড় রানে পৌঁছতে ফের একবার চরম ব্যর্থ ভারতের তারকা উইকেটরক্ষক।গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন।নামের পাশে ৬২ বলে ৩৯ রান। আর ঠিক তখনই মাথাচাড়া দিয়ে উঠল সেই চেনা হঠকারিতা। তাঁর এই অদ্ভুত আউট হওয়ার ধরন দেখেই এখন চরম ক্ষুব্ধ মহম্মদ কাইফ। প্রাক্তন ভারতীয় তারকার নিশানায় পন্থের ‘কমন সেন্স’ বা সাধারণ জ্ঞান। টেস্ট ক্রিকেটে ৮০ ওভারের পর দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার নিয়ম। যা সবসময়ই ব্যাটারদের জন্য বিপজ্জনক। এতে পেসাররা হাওয়ায় বাড়তি সুইং পান। পিচ থেকে আসে আচমকা বাউন্স। অলিখিত নিয়ম হল, প্রথম কয়েকটা ওভার একটু দেখেশুনে খেলা। অন্তত বলের চরিত্রটা বুঝে নেওয়া। নিজের...
শুরুটা বেশ ভালই করেছিলেন। কিন্তু বড় রানে পৌঁছতে ফের একবার চরম ব্যর্থ ভারতের তারকা উইকেটরক্ষক।গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন।নামের পাশে ৬২ বলে ৩৯ রান। আর ঠিক তখনই মাথাচাড়া দিয়ে উঠল সেই চেনা হঠকারিতা। তাঁর এই অদ্ভুত আউট হওয়ার ধরন দেখেই এখন চরম ক্ষুব্ধ মহম্মদ কাইফ। প্রাক্তন ভারতীয় তারকার নিশানায় পন্থের ‘কমন সেন্স’ বা সাধারণ জ্ঞান। টেস্ট ক্রিকেটে ৮০ ওভারের পর দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার নিয়ম। যা সবসময়ই ব্যাটারদের জন্য বিপজ্জনক। এতে পেসাররা হাওয়ায় বাড়তি সুইং পান। পিচ থেকে আসে আচমকা বাউন্স। অলিখিত নিয়ম হল, প্রথম কয়েকটা ওভার একটু দেখেশুনে খেলা। অন্তত বলের চরিত্রটা বুঝে নেওয়া।
নিজের চেনা আক্রমণাত্মক মেজাজেই সদাই মত্ত। ইনিংসের তখন ৮১তম ওভার। শ্রীলঙ্কা সদ্য নতুন বল হাতে নিয়েছে । বল করতে এসেছেন কেশারা নুওয়ান্তা। ঠিক সেই ওভারেই ক্রিজ ছেড়ে তেড়েফুঁড়ে বেরিয়ে এলেন ভারতীয় উইকেটরক্ষক। উদ্দেশ্য, সরাসারি আক্রমণে বিশাল ছক্কা হাঁকানো। কিন্তু তাতেই টাইমিংয়ে চূড়ান্ত গড়বড়। ব্যাটে-বলে ঠিকমতো সংযোগ হল না। বল লাগল ব্যাটের একদম নিচের দিকে। নিট ফল? বল সোজা আকাশে। মিড-অফে সহজ ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরা।
পন্থের এই অহেতুক শট নির্বাচন নিয়েই তীব্র কটাক্ষ করেছেন কাইফ। ক্রিকেট সম্প্রচারকারী চ্যানেল সোনি স্পোর্টসে তিনি সরাসরি ক্ষোভ উগরে দেন। বলেন, ‘ঋষভ পন্থ যেভাবে আউট হয়েছে, তা নিয়ে আমার কোনও অভিযোগ নেই। ও চিরকাল ওরকমই খেলে। কিন্তু আমার মূল অভিযোগ ওর সাধারণ জ্ঞান বা কমন সেন্স নিয়ে। নতুন বলের প্রথম ওভার। আর ওই ওভারেই ও তিনবার ক্রিজ ছেড়ে লাফাল! কমন সেন্স বলছে, এই সময় কাট শট খেলা উচিত। নতুন বল অন্তত পাঁচ-ছয় ওভার দেখে খেলা দরকার। এটাই টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্য। ওর মতো আক্রমণাত্মক মেজাজে যারা খেলে, তারাও অন্তত এইটুকু কমন সেন্স ব্যবহার করে।
এখানেই থামেননি কাইফ। তাঁর মতে, পন্থের চেয়ে অন্য ব্যাটারদের ক্রিকেটীয় যুক্তি ও বোধ অনেক বেশি প্রখর। যোগ করেন, ‘আমি তো অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। দেখলাম ও ওভারের প্রথম বলেই লাফিয়ে পড়ল! ক্রিকেটে একটু তো হিসেব কষতে হয়। একজন ব্যাটার যদি ১৫০ রানেও ক্রিজে থাকে, নতুন বল এলে সে-ও অন্তত প্রথম কয়েকটা বল রয়েসয়ে খেলে। এই জায়গাটায় আমি ওর বেশ কয়েকটা নম্বর কাটছি। যুক্তি আর ক্রিকেটীয় বুদ্ধির দিক থেকে ও আজ অনেকটাই পিছিয়ে পড়ল। পন্থ নিজের দোষে নিরাশ করলেও, ভারতের অন্য ব্যাটাররা এদিন দাপট দেখিয়েছেন। প্রথম দিনের ২৮৮/২ স্কোর নিয়ে খেলা শুরু করেছিল দল । কেএল রাহুল অল্পের জন্য শতরান ফস্কান। আউট হন ৮২ রানে। তবে দিনের আসল তারকা দেবদত্ত পাড়িকল। তাঁর ব্যাট থেকে আসে অনবদ্য ১৬৭ রানের এক ঝকঝকে ইনিংস। এরপর নিচের দিকে ধ্রুব জুরেলের লড়াকু ৫১। মানব সুতার করেন ২৪ রান। তবে দিনের শেষ সেশনে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা। মূলত স্পিনার প্রবাথ জয়সূর্যের ভেলকিতে। ১০৯ রানে ৪ উইকেট তুলে নেন তিনি। অন্যদিকে, পন্থের মহামূল্যবান উইকেট নেওয়া বোলার কেশারা নুওয়ান্তা দিন শেষ করেন ১৭৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ।