অলক আচার্য, শিয়ালদহ: সোমবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিট নাগাদ আচমকাই আগুন লাগে শিয়ালদহ স্টেশনের ফুড প্লাজায়। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে অফিস টাইমে ব্যস্ত রেলস্টেশন চত্বরে আগুন লাগার ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ফুড প্লাজা থেকে গলগল করে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রী ও স্টেশন চত্বরের ব্যবসায়ীরা। একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের পরেও কি শিক্ষা নিচ্ছে না কলকাতা? চলতি মাসেই তারাপীঠ ও নিউ মার্কেটে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় মোট ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার সকালে শিয়ালদহ স্টেশনের বাইরে ফুড প্লাজায় আগুন লাগার ঘটনায় ফের অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। আগুন...
অলক আচার্য, শিয়ালদহ: সোমবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিট নাগাদ আচমকাই আগুন লাগে শিয়ালদহ স্টেশনের ফুড প্লাজায়। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে অফিস টাইমে ব্যস্ত রেলস্টেশন চত্বরে আগুন লাগার ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ফুড প্লাজা থেকে গলগল করে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রী ও স্টেশন চত্বরের ব্যবসায়ীরা। একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের পরেও কি শিক্ষা নিচ্ছে না কলকাতা? চলতি মাসেই তারাপীঠ ও নিউ মার্কেটে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় মোট ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার সকালে শিয়ালদহ স্টেশনের বাইরে ফুড প্লাজায় আগুন লাগার ঘটনায় ফের অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। আগুন নেভাতে গিয়ে স্টেশন চত্বরের জল সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়েও দমকলের সঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষের মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। সোমবার সকালে শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরের একটি খাবারের দোকান থেকে আচমকাই ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের তিনটি ইঞ্জিন।
দমকলকর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করেন। তবে আগুন নেভানোর সময়ই সমস্যা তৈরি হয়। দমকল আধিকারিকদের অভিযোগ, স্টেশন চত্বরের পাইপলাইন থেকে তাঁরা জল পাননি। ফলে দমকলের ইঞ্জিনে থাকা জল দিয়েই আগুন নেভানোর কাজ করতে হয়। তাঁদের দাবি, এই কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। শুধু জল সরবরাহ নয়, ওই খাবারের দোকানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দমকল আধিকারিকরা। আগুনের তীব্রতায় দোকানটি প্রায় সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে দোকানের চিমনিও। দমকলের অভিযোগ খারিজ রেলের ঘটনার খবর পেয়ে শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। দমকলের অভিযোগ নিয়ে প্রাথমিকভাবে তিনি আপত্তি জানান। ডিআরএম বলেন, বিষয়টি বিস্তারিত খতিয়ে না দেখে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, এটি বিধ্বংসী ধরনের আগুন ছিল না। মূলত ধোঁয়া দেখে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আপাতত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানান তিনি। ঘটনাটি আরো উদ্বেগ বাড়িয়েছে কারণ, এই একই খাবারের দোকানে গত বছরও আগুন লেগেছিল। এক বছরের মধ্যে ফের সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্টেশন চত্বরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডিআরএম জানিয়েছেন, দোকানের মালিকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছে। এদিকে, কী কারণে আগুন লাগল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।