নদী ভাঙন রুখতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
কলকাতা: রাজ্যর বন্যা পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবুও ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি জেলার পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান। অতিবৃষ্টি ও ডিভিসির জল ছাড়ার কারণে রাজ্যে কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার জলসম্পদ ভবনে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে সেচমন্ত্রী অরূপ কুমার দাস-সহ বিভাগীয় আধিকারিকরা ছিলেন। পরে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মালদহর মানিকচকের ভুতনির পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গঙ্গার ভাঙনে প্রায় ১৯টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে প্রতিমন্ত্রী জুয়েল মুর্মু, বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল ও জেলা প্রশাসন ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে নজর রাখছেন। ৮টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। ৩ বেলা...
নদী ভাঙন রুখতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
কলকাতা: রাজ্যর বন্যা পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবুও ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি জেলার পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান। অতিবৃষ্টি ও ডিভিসির জল ছাড়ার কারণে রাজ্যে কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার জলসম্পদ ভবনে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে সেচমন্ত্রী অরূপ কুমার দাস-সহ বিভাগীয় আধিকারিকরা ছিলেন। পরে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মালদহর মানিকচকের ভুতনির পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গঙ্গার ভাঙনে প্রায় ১৯টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে প্রতিমন্ত্রী জুয়েল মুর্মু, বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল ও জেলা প্রশাসন ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে নজর রাখছেন। ৮টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। ৩ বেলা খাবার, পানীয় জল-সহ দরকারি সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। এনডিআরএফকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মালদহ ছাড়াও হাওড়ার আমতা, উদয়নারায়ণপুরের কিছু এলাকা, হুগলির জাঙ্গিপাড়া, খানাকুল, গোঘাট নিয়ে মোট ৭টি ব্লকের ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত প্লাবিত হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল, বাঁকুড়ার সোনামুখীর অবস্থা এখন ঠিক আছে। যদিও ওই এলাকাগুলি ছাড়াও খানাকুল জাঙ্গিপাড়া উদয়নারায়ণপুর এলাকায় নদীগুলো বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পর্যাপ্ত তহবিল, ত্রাণ সামগ্রী, সাপে কাটার ওষুধসহ অন্য ওষুধ, ডুবুরি, স্পিডবোট, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকেও তৈরি রাখা হয়েছে। যেসব বাড়ি ডুবে রয়েছে সে এলাকায় দুর্গত বাসিন্দাদের জন্য রেশন ও পানীয় জল দেবে পুলিশ। গবাদি পশুর ক্ষয়ক্ষতি যাতে না হয় সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বড়ো কিছু ব্যাপার নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে সরকার কোনো ঘাটতি রাখছে না। বৃষ্টি কমেছে। জল ছাড়ার পরিমাণও কমেছে। নতুন করে বৃষ্টি না হলে আজ থেকেই জল নেমে যাবে।’ গত ২ দিনে ডিভিসির বাঁধগুলি থেকে ১লাখ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে বলে শুভেন্দু জানান। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে বন্যা হলে বরাবর ডিভিসির দিকে আঙুল তুলতেন। তবে এখনকার মুখ্যমন্ত্রী ডিভিসির কাজের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমি আগের মুখ্যমন্ত্রীর মতো ম্যানমেড বন্যার তত্ত্ব দিতে পারব না। ডিভিসি ভালো কাজ করছে। সবকিছুর ধারণ ক্ষমতা থাকে। অতি বৃষ্টির ফলে বাঁধ উপচে গেলে তো জল ছাড়তেই হবে। এটা আমরা মোকাবিলা করব। সামলে নিতে হবে।’ এবার নিম্ন দামোদর এলাকায় একটিও বাঁধ ভাঙেনি, সুইস গেটগুলিও ঠিকমতো কাজ করেছে বলে তিনি জানান। মালদহ, মুর্শিদাবাদের নদীর ভাঙন রোধ করার জন্য রাজ্য সরকার দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। এর জন্য বড়ো পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় জলশক্তিমন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে। কানপুর আইআইটির বিশেষজ্ঞদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও বিহার সরকার নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বৈঠক করবে।’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওই প্রকল্পর জন্য কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রক এবার ৫০০ কোটি টাকা দেবে। বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল থেকে আর্থিক সাহায্যর জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও চিঠি লিখেছি। বছরখানেক পরই এর কিছুটা সুফল দেখা যাবে।’