সুদীপকুমার বল, মালদহ: ‘যেমন রঙের বৃষ্টি মনে ধরবে তেমন রঙের ছাতা ধরব, রাজনীতির ময়দানে নতুন ছাতার অপেক্ষায় আছি।’ ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে এমনই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। বুধবার তিনি বোর্ড অফ কাউন্সিলরদের বৈঠকে তাঁর পদত্যাগপত্র পেশ করেন। জেলাশাসক, পুরমন্ত্রী সহ প্রশাসনের পদস্থ কর্তাদের কাছেও ইস্তফাপত্র পাঠানো হয়েছে। পুরসভায় তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও পুরভোটের আগে তাঁর এই পদত্যাগকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কৃষ্ণেন্দু বলেন, “পুরসভা চালাতে পারছিলাম না। ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকে কেউ ট্যাক্স দিচ্ছে না। পুরসভার ভাঁড়ারে টাকা নেই। ফলে আগামীদিনে পথ চলা মুশকিল।...
সুদীপকুমার বল, মালদহ: ‘যেমন রঙের বৃষ্টি মনে ধরবে তেমন রঙের ছাতা ধরব, রাজনীতির ময়দানে নতুন ছাতার অপেক্ষায় আছি।’ ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে এমনই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। বুধবার তিনি বোর্ড অফ কাউন্সিলরদের বৈঠকে তাঁর পদত্যাগপত্র পেশ করেন। জেলাশাসক, পুরমন্ত্রী সহ প্রশাসনের পদস্থ কর্তাদের কাছেও ইস্তফাপত্র পাঠানো হয়েছে। পুরসভায় তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও পুরভোটের আগে তাঁর এই পদত্যাগকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কৃষ্ণেন্দু বলেন, “পুরসভা চালাতে পারছিলাম না। ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকে কেউ ট্যাক্স দিচ্ছে না। পুরসভার ভাঁড়ারে টাকা নেই। ফলে আগামীদিনে পথ চলা মুশকিল। সেই কারণেই পদ থেকে সরে দাঁড়ালাম।’ ইংরেজবাজার পুরসভায় এখনো পর্যন্ত যতজন চেয়ারম্যান হয়েছেন, সবচেয়ে বেশিদিন এই পদে ছিলেন কৃষ্ণেন্দু। তিনি বলেন, ‘শহরের জলনিকাশি সমস্যা মেটাতে পেরেছি। বন্যা প্রতিরোধের ব্যবস্থা করেছি। পুরনিগমকে বাইরে রাখলে রাজ্যে একমাত্র পুরসভা ইংরেজবাজার। যার নিজস্ব আয় বছরে ৩০ কোটি টাকা। মালদহ শহরের এলাকা ১৩.২৫ বর্গ কিলোমিটার।’ ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনীতি আমার রক্তে রয়েছে। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত রাজনীতি করব। আপাতত কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করব আর নিজের এনজিওর মাধ্যমে মানুষের সেবামূলক কাজ চালিয়ে যাব।’ সম্প্রতি তিনি জানিয়েছিলেন, ‘নিজের ওয়ার্ড থেকে দাঁড়াব, তবে তৃণমূলের প্রতীকে আর নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি শ্রদ্ধা করি, কিন্তু উনি বললেও তৃণমূলে আমি আর নেই।’ কোন দলে যাবেন তা নিয়ে তিনি সরাসরি কিছুনা বললেও মন্তব্য করেন, ‘কংগ্রেস মালদহ জেলায় প্রাসঙ্গিক। কংগ্রেসকে উপেক্ষা করা যায় না।’ আবার বলেছেন, ‘আমার দাদু আশুতোষ চৌধুরী মালদহে হিন্দু মহাসভার সম্পাদক ছিলেন।’ তাঁর এই মন্তব্যের পর তিনি বিজেপি না কংগ্রেস কোন দিকে ঝুঁকতে চলেছেন তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এদিকে, নিয়ম অনুযায়ী আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই পদত্যাগপত্র গ্রহণের জন্য সভা ডাকবেন ভাইস চেয়ারম্যান। কিন্তু ডামাডোলের মধ্যে এসব মালদহবাসীর নজর কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী নতুন কোন দলের ছাতার তলায় আশ্রয় নেবেন সেদিকে।