নেপাল বিপর্যয়ের পর কেটে গিয়েছে প্রায় পনেরো দিন। কিন্তু এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি মুকুল রায়ের পুত্রবধূ তথা শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর কোনও খোঁজ না মেলায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগে পরিবার। এর মধ্যেই স্ত্রী-সহ নিখোঁজদের নিয়ে ফের মুখ খুললেন শুভ্রাংশু। তবে এত কিছুর মধ্যেও আশাবাদী তিনি। শুভ্রাংশুর বিশ্বাস, শর্মিষ্ঠারা সুস্থই রয়েছেন। তাঁর অনুমান, চিন-তিব্বত সীমান্তের কোনও এলাকায় হয়তো রয়েছেন তাঁর স্ত্রী এবং তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য নিখোঁজরা। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। আর সেই কারণেই নিখোঁজ ব্যক্তিরা আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করছেন তিনি। তবে অযথা দুশ্চিন্তার...
নেপাল বিপর্যয়ের পর কেটে গিয়েছে প্রায় পনেরো দিন। কিন্তু এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি মুকুল রায়ের পুত্রবধূ তথা শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর কোনও খোঁজ না মেলায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগে পরিবার। এর মধ্যেই স্ত্রী-সহ নিখোঁজদের নিয়ে ফের মুখ খুললেন শুভ্রাংশু। তবে এত কিছুর মধ্যেও আশাবাদী তিনি। শুভ্রাংশুর বিশ্বাস, শর্মিষ্ঠারা সুস্থই রয়েছেন। তাঁর অনুমান, চিন-তিব্বত সীমান্তের কোনও এলাকায় হয়তো রয়েছেন তাঁর স্ত্রী এবং তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য নিখোঁজরা। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। আর সেই কারণেই নিখোঁজ ব্যক্তিরা আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করছেন তিনি। তবে অযথা দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই বলেই দাবি শুভ্রাংশুর। ঘটনার সূত্রপাত গত ২১ আগস্ট। হাওড়া থেকে একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। নেপালে পৌঁছনোর পর একাধিকবার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলেন তিনি। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট রাতে শেষবার শর্মিষ্ঠার সঙ্গে কথা হয় শুভ্রাংশুর। এর পরের দিন, অর্থাৎ ২৬ আগস্ট সকাল থেকেই নেপালের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হতে শুরু করে। হড়পা বানের খবর পাওয়ার পর থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যান শুভ্রাংশু। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের তরফে নিখোঁজ শর্মিষ্ঠার সন্ধানে একাধিক জায়গায় যোগাযোগ করা হয়। থানা থেকে ভবানী ভবন, বিদেশ মন্ত্রক থেকে দূতাবাস—সর্বত্র যোগাযোগ করে পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও নিশ্চিত খবর মেলেনি। এর মধ্যেই পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। ডিএনএ স্যাম্পেল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। ফলে পরিবারের মধ্যে আরও বড় কোনও দুঃসংবাদের আশঙ্কা তৈরি হয়।
তবে এরই মাঝে গত সোমবার রাতে শুভ্রাংশুর ফেসবুক প্রোফাইলের ডিসপ্লে ছবিতে নজর পড়ে অনেকের। সেখানে সস্ত্রীক একটি ছবি ব্যবহার করেন তিনি। কিন্তু ছবিটি ছিল সাদা-কালো। আর এই ছবি ঘিরেই শুরু হয় নতুন জল্পনা। অনেকেই মনে করতে থাকেন, সাদা-কালো ছবি ব্যবহারের পিছনে হয়তো কোনও অশুভ ইঙ্গিত রয়েছে। এই বিষয়ে শুভ্রাংশুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস বলেন, “এখনও কোনও খবর আসেনি। কেন এমন ছবি পোস্ট করেছে বলতে পারব না।” শুভ্রাংশুর ফেসবুক ডিসপ্লে ছবি ঘিরে দুঃসংবাদের জল্পনা যখন ক্রমশ বাড়তে শুরু করেছে, তার পরেই ফের নিজের ডিসপ্লে ছবি বদলে দেন তিনি। স্ত্রী শর্মিষ্ঠার কোনও সন্ধান এখনও না মেলায় উদ্বেগ কাটছে না পরিবারের। তবে সমস্ত আশঙ্কার মধ্যেও শুভ্রাংশুর বিশ্বাস—শর্মিষ্ঠা সুস্থ রয়েছেন ।